Skip to main content

Posts

Showing posts from August, 2020

মনসার জাতগান.. এক বিলুপ্তপ্রায় লোকগান

  দেবী মনসার জাতগান..  কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্য                                 কবিগানের মত মনসার জাতগানও বাংলার এক ঐতিহ্যপূর্ণ লোকগান৷ সাধারণতঃ আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এই গান বঙ্গের মনসা মন্দিরগুলিতে মাতৃৃৃৃৃৃৃৃৃসদনে গাওয়া হয়৷ জ্যৈষ্ঠ মাসে দশহরা থেকে শুরু করে আশ্বিন মাসের সংক্রান্তি অর্থাৎ ডাকসংক্রান্তি পর্যন্ত শনি ও মঙ্গলবার ধরে বিভিন্ন স্থানে নাগমাতার পূজা অনুষ্ঠিত হয়৷ গ্রামগঞ্জে তাই আজও দেবীর লীলাসম্বলিত জাতগান খুব জনপ্রিয়৷                              জাতগানের ভিডিও                কবিগানের সাথে এই জাতগানের কিয়দংশে সাদৃৃৃৃৃৃশ্য লক্ষ্য করা যায়৷ অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতকে কয়েকটি বিশেষ পর্যায় গেয়ে কবিগান শুরু করা হত৷ তৎকালীন কবিয়ালগণ প্রথমেই সখীসংবাদ পর্যায় গাইতেন৷ সখীসংবাদ ও দূতীসংবাদ কীর্তনের মাথুরলীলা সম্পর্কিত, যা মথুরাকেন্দ্রিক৷ মনসার জাতগানেও এই সখীসংবাদ ও দূতীসংবাদ পর্যা...

এক বিচিত্র রূপে দেবী মনসার প্রতিমা..

কবিগানে এক বিচিত্র মনসা দর্শন..  কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্য                                 বাঁকুড়া শহর হতে সোজা দক্ষিণে তালডাংরা-শিমলাপাল-রাইপুর-শিলদা-ঝাড়গ্রাম মুখী রাস্তায় পনের কি.মি. যাওয়ার পর রতনপুর বাজার৷ রতনপুরে প্রবেশ করার ঠিক আধ কি.মি. আগেই পাকা রাস্তার ডানপাশে একটা বটবৃৃৃৃৃৃৃক্ষ এবং সেখান থেকে পশ্চিম দিকাভিমুখে লাল মরামের রাস্তা ধরে চার কি.মি. গেলেই বালিগুমা গ্রাম৷ মাঝারি ধরণের এই বর্ধিষ্ণু গ্রামটিতে দেবী মনসার পূজা এক বড় উৎসব৷ এই উৎসবকে ঘিরে গ্রামবাসীদের কত আশা-আকাঙ্খা, চাওয়া-পাওয়া, খুশীর ছোঁয়া৷                  কেনই বা হবে না? এই গ্রামের পূজিতা মাতা যে অন্য স্থানের চেয়ে সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র, এখানে নাগজননীর প্রতিমা দেবী দুর্গার প্রতিমার মতো৷ মাতার দক্ষিণে গণেশ ও লক্ষ্মীদেবী এবং বামদিকে সরস্বতী ও কার্তিক বিরাজমান৷ ২০১৪ সালে প্রথম এই বালিগুমা গ্রামে মাতৃৃৃৃৃৃৃৃসদনে কবিগান পরিবেশন করেছিলাম৷ মনসাপূজা আয়োজক কমিটি পুণরায় ২০১৯ সালে আমাদের "যামিনী র...

কবিগান.... তরজা ও ঝুমুর

Similarities and dissimilarities between Kabigaan and Tarjagaan..                                      তরজা ও ঝুমুর সঙ্গীত বাংলার কবিগানে বৈচিত্রের স্বাদ আনে..   কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্য  " এই পর্যন্ত হলাম ক্ষান্ত রাধাকান্ত স্মরি.. প্রেমানন্দে ভক্তবৃন্দে বলুন হরি হরি৷৷"                  কবিগান ও তরজাগানের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের তুলনায় উপরোক্ত পঙক্তিদুটি সাদৃশ্যের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ৷ সম্মুখসমরে বাদানুবাদে লিপ্ত একজন পাল্লাদার তাঁর আসর সমাপনের ঠিক পূর্বেই উদ্ধৃত চরণ সাধারণতঃ দ্বিপদী পয়ার ছন্দে প্রতি আসরেই পরিবেশন করেন৷ শুধুমাত্র কবিয়াল বা তরজাগায়ক নয়, একজন কীর্তনীয়া, রামায়ণ ও পাঁচালীগায়ক, স্তাবক, ছড়াকার এমনকি পুরাণকারও উপর্যুক্ত ছত্র আসর অথবা স্তবক শেষে গেয়ে থাকেন৷ এক্ষেত্রে কবিগানের সহিত তরজাগানের সংগতি লক্ষণীয়৷                তরজার উৎপত্তি                ...

কবিগানের আবির্ভাবকাল ও উৎপত্তির পটভূমিকা..

  The origination of Bengali Kabigaan                                                         কবিগানের আবির্ভাবকাল ও উৎপত্তি                  কবিয়াল  গণেশ ভট্টাচার্য   সাহিত্য সৃষ্টির আগে কবিগানের ভাব জাগে আদিকবির মানস মোহনায়..            বঙ্গদেশের শ্রেষ্ঠ লোকগান কবিগান বাংলার লোকায়ত সাহিত্যের এক বিপুল সম্পদ যেটি বাঙালির মনের মণিকোঠায় আজও উদ্ভাসিত৷ কবিগানের উৎস ও উৎপত্তিকাল বিষয়ে পণ্ডিতদের মধ্যে বিস্তর মতভেদ লক্ষ্য করা যায়৷ কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বিরচিত “কবিজীবনী”, ডঃ প্রফুল্লচন্দ্র পালের “প্রাচীন কবিওয়ালার গান”, নিরঞ্জন চক্রবর্ত্তী রচিত “ঊনবিংশ শতাব্দীর কবিওয়ালা ও বাংলাসাহিত্য”, ডঃ দীনেশচন্দ্র সেনের “বঙ্গভাষা ও সাহিত্য” এবং “পূর্ববঙ্গের কবিয়াল ও কবিসংগীত”, ডঃ সুশীলকুমার দে রচিত “হিষ্ট্রি অফ বেঙ্গলি লিটারেচার ইন দ্য নাইনটিন্থ সেঞ্চুরি”, গোপালচন্দ্র বন্...

মনসাপূজায় কবিগানে মেতে উঠে গ্রামবাংলা..

KABIGAAN ON MANASA PUJA MANASA, The Goddess of Snake..  কবিগানের আসর মনসাপূজায়..  " উরগ মনসামাতা    ত্রৈলোক্যের ধাত্রীমাতা          যোগজপ্যা হরের নন্দিনী৷  উৎপত্তি পাতালপুরী        বিশ্বমাতা বিষহরি   চারুকান্তি নির্ম্মলধারিনী৷৷"   কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্য           ঢোলের তালে কোমর দুলিয়ে ত্রিপদী পয়ার ছন্দে দেবী মনসার বন্দনায় জমে উঠে গ্রামগঞ্জের কবিগানের আসর৷ শ্রাবণ ও ভাদ্রমাসের সংক্রান্তিতে বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে পদ্মকুমারী মনসার পূজা ও উৎসব সাড়ম্বরে পালিত হয়৷ জ্যৈষ্ঠ মাসে দশহরা থেকে শুরু হয়ে আশ্বিন মাসের সংক্রান্তি অর্থাৎ ডাক সংক্রান্তি পর্যন্ত বাংলার প্রায় প্রতিটি গ্রামেই বিভিন্ন স্থানে নাগমাতার পূজা অনুষ্ঠিত হয়৷ শুধুমাত্র সংক্রান্তি নয়, তিথি ও বারানুযায়ী শনি ও মঙ্গলবার ধরেও বঙ্গের নানা স্থানে নানা নামে দেবী পূজিতা হন৷ কোথাও ভক্তগণের মানসে তিনি মনসা, কোথাও জগৎগৌরী, কোথাও পদ্মা ও পদ্মকুমারী, কোন স্থানে কেতকা, বিষ হরেন বলে বিষহরি, পাতালে জন্ম তাই পাতালকুমারী প্রভৃৃৃৃৃৃৃৃৃতি বিভিন্ন না...

স্বাধীনতার পূর্ব ও পরবর্তী যুগে কবিগান..

KABIGAAN.. AFTER          FREEDOM  স্বাধীনত্তোর যুগে কবিগানের লড়াই..   কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্য                   বঙ্গদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষামূলক ও ঐতিহ্যপূর্ণ লোকগান হল কবিগান৷ কবিগানের উৎপত্তি ও গৌরবময় কাল বিষয়ে বিদগ্ধ গবেষকগণ নানা গ্রন্থে প্রচুর লেখালেখি করেছেন৷ তবে প্রাচীন কবিগানের বেশির ভাগটাই কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত তাঁর "সংবাদ প্রভাকর" পত্রিকায় লিপিবদ্ধ করেন৷ উক্ত পত্রিকার ১২৬১ সনের ১ লা অগ্রহায়ণ সংখ্যায় তিনি গোঁজলা গুঁইকেই প্রথম কবিয়াল হিসেবে চিহ্নিত করে লালু-নন্দলাল, রঘুনাথ দাস ও রামজী দাস- তাঁর এই শিষ্যগুলির কথা উল্লেখ করেন৷ এ বিষয়ে বিভিন্ন আঞ্চলিক গবেষকগণ তাঁদের নিজ নিজ রচনায় নানা স্বাধীন মত পোষণ করেছেন৷                 স্বাধীনতা পূর্ববর্তী যুগে কবিগানের সূচনাকাল হতে কবিগানকে কয়েকটি পর্বে বিভক্ত করা হয়৷   বাংলার ঐতিহ্যপূর্ণ লোকসঙ্গীত ও জনসাহিত্য কবিগানের প্রবহমানকালের সাধারণভাবে তিনটি পর্ব লক্ষ্য করা যায়৷ যথা— ক) প্রাক ১৭৬০ খ্রীঃ পর্ব, খ) ১...

শ্রীকৃৃৃৃৃৃৃষ্ণ বিষয়ক কবিগানের পালা..

  শ্রীকৃৃৃৃৃষ্ণজন্মাষ্টমীব্রত উপলক্ষ্যে কবিগানের লড়াই..  "হে কৃষ্ণ করুণাসিন্ধু দীনবন্ধু জগৎপতে  গোপেশ গোপীকাকান্ত রাধাকান্ত নমোহস্তুতে৷৷"  "যখন কৃষ্ণ জন্ম নিলেন দৈবকী উদরে...  মথুরায় দেবগণ পুষ্পবৃষ্টি করে৷৷"...  কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্য               বাঙালীর বারো মাসে তের পার্বণ আর তার মধ্যে বর্ষাকালীন একটি শ্রীকৃৃৃৃৃৃষ্ণজন্মাষ্টমী মহোৎসব৷ তিথি অনুসারে সাধারণতঃ শ্রাবণ অথবা ভাদ্র মাসে পঞ্জিকায় এই উৎসবের দিন ধার্য হয়৷ এই উৎসব উপলক্ষ্যে বঙ্গদেশে ভোগ-প্রসাদ বিতরণ, ভূরিভোজ, নরনারায়ণ সেবা ও নানা সাংস্কৃৃৃৃৃৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়৷ বিভিন্ন লোক আঙ্গিকের মধ্যে সর্বাধিক চাহিদানুসারে কবিগানের লড়াই অধিকাংশ স্থানেই পরিবেশিত হয়৷ ভগবান শ্রীকৃৃৃৃৃৃৃৃষ্ণকেন্দ্রিক যে বিষয়গুলি কবিগানের আসরে উপস্থাপিত করা হয় সেগুলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে উল্লেখ করা হল—  ১) শ্রীকৃৃৃৃৃৃৃষ্ণ বনাম কংস—                 কবিগানের আকর্ষণীয় বিষয়টি আসলে মামা বনাম ভাগ্নের লড়াই৷ দেবকীনন্দন শ্রীকৃৃৃৃৃৃৃষ্ণ মামা কং...

কবিগানে আনন্দলোক পুরস্কার..

কবিগানের মাধ্যমে সমাজ সচেতনতার জন্য আনন্দলোক পুরস্কার ..  বঙ্গদেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষামূলক ও ঐতিহ্যপূর্ণ লোকগান হল কবিগান৷ এই গান সমাজকে চেতনা দান করে ঐক্য ও উন্নয়ন ঘটায়৷ বিগত আঠাশ বছর ধরে কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্য তার জনপ্রিয় কবিগানের দল "যামিনী রামকিঙ্কর কবিগান ট্রুপ" নিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে এরূপ সমাজ সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে চলেছেন৷ কয়েকটি প্রধান সামাজিক ব্যাধি যেমন পিতামাতাকে সেবাশুশ্রুষায় সন্তানের অনীহা, কন্যাভ্রূণ হত্যা, বাল্যবিবাহ, পণপ্রথা, পরিবেশ দূষণ, বিভিন্ন জলবাহিত রোগ, এডস, পোলিও, কুষ্ঠরোগ প্রভৃৃৃৃৃৃৃৃতি বিষয়ে শ্রোতৃৃৃৃৃৃৃবর্গকে তিনি সজাগ করে চলেছেন৷ তার এই সামাজিক অবদানের জন্য এবিপি গ্রুপের আনন্দলোক ম্যাগাজিন ও অফিসার্স চয়েস কোং তাকে "সালাম বেঙ্গল পুরস্কারে ভূষিত করেছেন৷ এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুরস্কারটি প্রদান করা হয় শিল্পনগরী দুর্গাপুরের "সৃৃৃৃৃৃৃৃজনী" অডিটোরিয়ামে৷ দর্শকে পরিপূর্ণ প্রেক্ষাগৃৃৃৃৃৃৃৃহে অফিসার্স চয়েসের পক্ষ থেকে শ্রীযুক্ত আনিশ মারিয়া মহাশয় ও আনন্দলোকের পক্ষ থেকে শ্রীযুক্ত শমীক দে মহাশয় তার হাতে পুরস্কার হিসাবে তুলে দেন ...

কবিগুরুর কোমল অন্তরে কবিয়ালগণ..

  বাইশে শ্রাবণের শ্রদ্ধাঞ্জলি..  কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্য  কবিগুরু হতদরিদ্র কবিয়ালদের কথা বিশেষভাবে উপলব্ধি করেছিলেন৷ তিনি লিখেছেন—  "আমি যদি পল্লী কৃষকের ঘরে জন্মাতাম, কিম্বা মাঝি, মালো, কর্মকার বা তন্তুবায়ের ঘরে, আর আমার যদি থাকত সহজাত কবিত্বশক্তি তাহলে আমি বড়জোর একটা কীর্তনের বা পাঁচালীর দল খুলতাম অথবা কবিয়ালরূপে গ্রামে গ্রামে গাওনা গেয়ে বেড়াতাম৷ সমাজের প্রতিকূল পরিবেশেই প্রতিহত হত আমার এর চেয়ে বেশী কিছু হওয়ার সম্ভাবনা৷ আমি জানি অনেক সম্ভাবনীয়তার কুঁড়িই এভাবে অকালে ঝরে যায় যেগুলি ফুল হতে পারে না এবং দেখেছিও তেমন দু'দশজন৷" 

রামকিঙ্কর বেইজ— এক বিশ্ববিখ্যাত বাঁকড়ি

     রামকিঙ্কর বেইজের নামানুসারে আমাদের কবিগানের দলের নামকরণ..                            কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্য বাঁকুড়ার যে দুজন কৃৃৃৃৃৃৃৃতী সন্তানের নামানুসারে আমাদের কবিগানের দলের নামকরণ তাঁরা হলেন বেলিয়াতোড়ের যামিনী রায় ও বাঁকুড়া শহরের যুগীপাড়ার রামকিঙ্কর বেইজ৷  রামকিঙ্কর বেইজ  (২৫ মে , ১৯০৬ - ২ অগস্ট, ১৯৮০) ছিলেন আধুনিক ভারতীয় ভাস্কর্যকলার অন্যতম অগ্রপথিক একজন  বাঙালি ভাস্কর  যিনি আধুনিক পাশ্চাত্য শিল্প অধ্যয়ন করে সেই শৈলী নিজের ভাস্কর্যে প্রয়োগ করেন। তাঁকে ভারতীয় শিল্পে আধুনিকতার জনক   ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী মনে করা হয়।  রামকিঙ্কর বেইজ  ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সির বাঁকুড়া জেলার  যুগীপাড়ায়   জন্মগ্রহণ করেন।   তাঁর পিতা ছিলেন চণ্ডীচরণ বেইজ।                 মধ্যকৈশোরে রামকিঙ্কর অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবি আঁকতেন। মেট্রিক ক্লাস পর্যন্ত পড়াশোনা করার পর ষোলো বছর বয...