কবিগানের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী..
কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্য-
বঙ্গদেশের চিত্তাকর্ষক লোকগান কবিগানের চাহিদা যে ক্রমবর্ধমান এ বিষয়ে আমরা অনেকেই অবগত৷ প্রথম কারণ হিসেবে উল্লেখ্য যে কবিগান বর্তমানে যুগোপযোগী ও পরিবর্তনশীল৷ আমার স্বরচিত কবিগান পাঠক্রমে দু খানি রচনাধর্মী প্রাবন্ধিক প্রশ্ন আছে৷ যথা (ক) “কবিগান কী পরিবর্তনশীল”? — মতামতসহ আলোচনা কর৷ (খ) “কবিগান যুগোপযোগী হওয়া প্রয়োজন”— তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দেখাও৷
এ প্রসঙ্গে কবিগানের আবির্ভাবকালে একটু আলোকপাত করা প্রয়োজন৷ কবি ঈশ্বর গুপ্ত তাঁর “সংবাদ প্রভাকর” পত্রিকায় ১২৬১ সালের ১অগ্রহায়ণ সংখ্যায় সপ্তদশ শতককে কবিগানের উৎপত্তিকাল ও ‘গোঁজলা গুঁঁই’ কে প্রথম কবিয়াল উল্লেখ করেন৷ অনেক ঐতিহাসিক ও সাহিত্যিক ১৭৬০ থেকে ১৮৩০ খ্রি: সময়কালকে কবিগানের সমৃৃদ্ধি ও প্রাচুর্যপূর্ণ কাল বলে অভিহিত করেছেন৷ সেইসময় হরু ঠাকুর, নিতাই বৈরাগী, ভবানী বেনে, রামবসু ও তারপর ভোলা ময়রা, এন্টনী ফিরিঙ্গী, যজ্ঞেশ্বরী, রমেশ শীল, শেখ গুমানী দেওয়ান প্রমুখ কবিয়ালগণ কবিগানকে এক উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেন৷ অতঃপর কবিগানের জনপ্রিয়তায় ক্রমশ: ভাঁটা পড়তে শুরু করে৷ উক্ত প্রখ্যাত কবিয়ালগণের উত্তরসূরিরা হয়তো শ্রোতৃৃবর্গকে নিত্যনতুন যুক্তি—তর্ক—আনন্দে মশগুল রাখতে অপারগ হওয়ার জন্য, নাগরিক জীবনে থিয়েটারের প্রাধান্য বর্ধিত হওয়ায় ও রক, জাজ, ডিস্কোর মত পাশ্চাত্য সঙ্গীতের উদ্ভাবনের ফলে কলকাতাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকা হতে কবিগান ক্রমশ: গ্রামগঞ্জের দিকে ঝুঁঁকতে থাকে৷ বঙ্গের শ্রেষ্ঠ শিক্ষামূলক লোকগান জরাগ্রস্ত হয়ে পড়ে কিন্তু গতায়ুপ্রাপ্ত হয় না৷
বর্তমানে সেই কবিগান ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করছে এবং পশ্চিমবঙ্গ—ঝাড়খণ্ডে ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়ে আলোড়ন সৃৃষ্টি করেছে৷ ভারতের রাজধানী দিল্লীতে কবিগানের ব্যাপক চাহিদা অবাক করার মতো৷ কোন সাংস্কৃৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তারা এখন নিজ অনুষ্ঠান আয়োজনে কবিগানের কথা প্রথমেই বিবেচনা করেন কারণ পাশ্চাত্য ঢপের সঙ্গীত অপেক্ষা মাটির সুরের হ্যাপা কম৷ তাছাড়া কবিগান পঞ্চরসসমন্বিত লোকগান, এ গানে আট থেকে আশি পর্যন্ত আবালবৃৃদ্ধবণিতার জ্ঞানানন্দের বিষয় উপস্থিত৷ যাইহোক, কবিগান পুণরায় সারাবিশ্বে স্বমহিমায় ছড়িয়ে পড়ুক৷


Comments
Post a Comment