Skip to main content

"বাঙলা উৎসব" মধ্যপ্রদেশে কবিগান..

SATURDAY, MAY 28, 2011


BANGLA UTSAV 2011 CONCLUDED

           বাংলা উৎসব ২০১১ 


কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্য 


ভোপালের রবীন্দ্রভবন প্রাঙ্গণে বাংলা উৎসবের সমাপ্তি হল গত ২২শে মে-র এক মনোরম সন্ধ্যায়। একগুচ্ছ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শ্রী বারিদবরণ ঘোষের মননশীল আলোচনা, বাংলার হরেক রকম হস্তশিল্প উৎপাদের মনোহারি প্রদর্শনী, পশ্চিমবঙ্গ থেকে নিয়ে আসা রন্ধনশিল্পীদের হাতের তৈরি সুস্বাদু খাবার-সব মিলিয়ে উৎসব প্রাঙ্গণ ছিল জমজমাট।
বাংলা উৎসব ২০১১-এর আয়োজক ছিলেন এম পি বঙ্গীয় পরিষদ, অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল গত ২০শে মে।
সংগঠকদের মধ্যে প্লেনারি কমিটি প্রথমদিন উদবোধনী অনুষ্ঠানে প্রস্তুত করলেন একটি গবেষণা মূলক অডিও-ভিসুয়্যাল বৃত্তচিত্র‘মধ্যভারতে বাঙ্গালি-সেকাল ও একাল।’মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান এবং বিশিষ্ঠ সাংবাদিক-বিধায়ক চন্দন মিত্রের উপস্থিতিতে শ্রীচৈতন্যদেব থেকে শুরু করে হালফিলের বন বিশেষজ্ঞ জে জে দত্ত--মধ্যপ্রদেশ গঠনে সবার অবদান বিবৃত করলেন সংগঠকেরা। এইদিন পরিবেশিত হল  জয়া আচার্যর একল নৃত্য, কাকলি সরকারের একল সঙ্গীত, অনুরেখা ঘোষের নির্দেশনায় পরিবেশিত হল ‘বাসন্তী’।
দ্বিতীয় দিনে একটি মনোজ্ঞ আলোচনা সভায় অংশ নিলেন বিশিষ্ট অধ্যাপক এবং প্রাবন্ধিক শ্রী বারিদবরণ ঘোষ। আলোচনার বিষয় ছিল ‘ভ্রমণ পিপাসু বাঙালি’। উপস্থিত ছিলেন প্লেনারি কমিটির প্রধান অনুপ ঘোষ, দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা। অন্যদিকে সাংস্কৃতিক মঞ্চে কবিগান পরিবেশন করলেন বাঁঁকুড়ার গণেশ ভট্টাচার্য ও তাঁর শিল্পীরা, ছোটদের দিয়ে নৃত্যের মাধ্যমে তপতী দাসগুপ্ত এবং মিনাকি গাঙ্গুলির নির্দেশনায় পরিবেশিত হল বাংলার লোকগান ‘আ মরি বাংলা ভাষা’। পরবর্তি অনুষ্টান ছিল বিদূষী পূর্ণিমা চৌধুরীর অপূর্ব সঙ্গীতের পরিবেশনা। এইদিনের শেষ পর্বে হিন্দমোটরের শিল্পী দলের নৃত্যনাট্য প্রযোজনা ‘পথের শেষ কোথায়’।
এবছরের বাংলা উৎসবের অন্যতম বিশেষ আকষর্ণ ছিল ‘রবীন্দ্র-ধারা’। বিশ্বকবির জন্মের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনার বিভিন্ন বিষয়কে নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন উদ্যোক্তারা। রবীন্দ্রসঙ্গীত, রবীন্দ্রকবিতার আবৃত্তি, এবং শিক্ষাক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের অবদান বিষয়ক আলচনায় উংশ নিয়েছিল অনেকেই। ২২শে মে, বাংলা উৎসবের শেষ সন্ধ্যায় সেই সব সফল প্রতিযোগীদের পুরষ্কৃত করা হল। এরপর স্থানীয় আরেরা বঙ্গীয় পরিষদের প্রযোজনায় মঞ্চস্থ হল সাহিত্যসম্রাট বঙ্কীমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত এবং সরিত চট্টোপাধ্যায় নির্দেশিত একটি ছোট নাটিকা‘কমলাকান্তের জবানবন্দী’। বিশিষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পী শম্পা কুন্ডু পরিবেশন করলেন বিভিন্ন স্বাদের কিছু নতুন-পুরোনো গান এবং শেষ পর্যায়ে বনানী চক্রবর্তির নির্দেশনায় পরিবেশিত হল নৃত্যনাট্য‘তাসের দেশ’।
বাংলা উৎসব এ বছরের মতন শেষ হল। কিন্তু আসল বাংলা কতটা উঠে এলো তার বিশ্লেষণ করার মতন সময়ও উদ্যক্তাদের খুব তাড়াতাড়িই বের করে নিতে হবে। আগামি বছরের প্রস্তুতি শুরু করার পক্ষে এর থেকে উপযুক্ত সময় আর পাওয়া যাবে কি? 

Comments

Popular posts from this blog

কবিগান বঙ্গের শ্রেষ্ঠ লোকগান..

      কবিগানে লোকশিক্ষার পাশাপাশি আছে বিনোদন  গণেশ ভট্টাচার্যঃ  ২১ মে, ২০২৫: বাঁকুড়া—  কবিগান বঙ্গের সর্বশ্রেষ্ঠ লোকশিক্ষামূলক লোকগান, কারণ এই গানের মত এত শিক্ষা, জ্ঞান ও সমাজ সচেতনতার বার্তা আর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না৷ মজার ছলে সমাজকে লোকশিক্ষা দেওয়াতে এই লোকগানের আর জুড়ি মেলা ভার৷ অবশ্য সব কবিগানের দল মানেই যে মজা বা বিনোদন আছে তা কিন্তু নয়৷ কবিয়ালের শিক্ষা, পরিবেশনের দক্ষতা, বুৎপত্তি ও সর্বোপরি ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভার জোরে একজন কবিয়াল সমাজের সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য হয়৷  অনলস প্রচেষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের দ্বারা কবিয়াল সমাজে জনপ্রিয় ও সুপ্রতিষ্ঠিত হয়৷ বর্তমানে জনপ্রিয়তার শিখরে বিরাজমান কবিগানের দল "যামিনী রামকিঙ্কর কবিগান ট্রুপ" এর অনুষ্ঠানের  একটু ঝলক দেওয়া হল৷  কবিগান দীর্ঘজীবি হোক.. 

বুটিকার্ট ইউনিক মেলায় কবিগানের সম্মান

আইসিসিআর গ্যালারিতে কবিগানের সম্মান  কলকাতার রবীন্দ্রনাথ টেগোর সেন্টারে আইসিসিআর গ্যালারিতে Boutiqart.org এর পক্ষ থেকে কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্যকে বিশেষ সম্মান প্রদান করা হয়..  গণেশ ভট্টাচার্য:              এই বাংলায় যাঁরা নিরলস প্রচেষ্টা ও অধ্যবসায়ের দ্বারা মাটির কোলঘেঁসা লোককৃষ্টিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন ও নানা গঠনমূলক কর্মের মাধ্যমে আদি সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন তাঁদের এক ছাতার তলায় আনার মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বুটিকার্ট ডট অর্গ. নামক একটি সংস্থা৷ আন্তর্জাতিক মানের এই সংস্থাটির দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটল কলকাতার রবীন্দ্রনাথ টেগোর সেন্টারে৷   Boutiqart.org এর পক্ষ থেকে কিউ টিভির কর্ণধার মাননীয়া সৃজা সুর ঘোষ সংবর্ধনা জ্ঞাপন করছেন কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্যকে..                                 গত ২৮, ২৯ ও ৩০ শে এপ্রিল এই তিনদিন ব্যাপী লোকশিল্পের সম্ভার বসেছিল কলকাতার ইণ্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের গ্যালারিতে৷ হো চি মিন সরণীতে অনুষ্ঠিত এই লোকশি...

মনসার জাতগান.. এক বিলুপ্তপ্রায় লোকগান

  দেবী মনসার জাতগান..  কবিয়াল গণেশ ভট্টাচার্য                                 কবিগানের মত মনসার জাতগানও বাংলার এক ঐতিহ্যপূর্ণ লোকগান৷ সাধারণতঃ আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এই গান বঙ্গের মনসা মন্দিরগুলিতে মাতৃৃৃৃৃৃৃৃৃসদনে গাওয়া হয়৷ জ্যৈষ্ঠ মাসে দশহরা থেকে শুরু করে আশ্বিন মাসের সংক্রান্তি অর্থাৎ ডাকসংক্রান্তি পর্যন্ত শনি ও মঙ্গলবার ধরে বিভিন্ন স্থানে নাগমাতার পূজা অনুষ্ঠিত হয়৷ গ্রামগঞ্জে তাই আজও দেবীর লীলাসম্বলিত জাতগান খুব জনপ্রিয়৷                              জাতগানের ভিডিও                কবিগানের সাথে এই জাতগানের কিয়দংশে সাদৃৃৃৃৃৃশ্য লক্ষ্য করা যায়৷ অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতকে কয়েকটি বিশেষ পর্যায় গেয়ে কবিগান শুরু করা হত৷ তৎকালীন কবিয়ালগণ প্রথমেই সখীসংবাদ পর্যায় গাইতেন৷ সখীসংবাদ ও দূতীসংবাদ কীর্তনের মাথুরলীলা সম্পর্কিত, যা মথুরাকেন্দ্রিক৷ মনসার জাতগানেও এই সখীসংবাদ ও দূতীসংবাদ পর্যা...